মহাকারুণিক
বুদ্ধ দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে যে ধর্মবিনয় প্রচার করেছিলেন তার চরম লক্ষ্য হচ্ছে
নির্বাণ। এই নির্বাণ লাভ করতে হলে দশ সংযোজন ছিন্ন করতে হয়। সেগুলো হচ্ছে: সৎকায়
দৃষ্টি, বিচিকিৎসা, শীলব্রত
পরামর্শ, কামরাগ, ব্যাপাদ,
রূপরাগ, অরূপরাগ, মান, ঔদ্ধত্য ও অবিদ্যা। এখানে সৎকায় দৃষ্টি
হচ্ছে আমিত্বের ধারণা। পঞ্চস্কন্ধকে (নাম, রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার
ও বিজ্ঞান) ‘আমি আমার’-রূপে ধারণ করা। বিচিকিৎসা হচ্ছে সন্দেহ— নিজেকে
নিয়ে ১৬ প্রকারের সন্দেহ, অন্যদিকে
বিভিন্ন বিষয়ে আরো আট প্রকার সন্দেহ।
শীলব্রত
হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়কে ব্রত ধরে বিমুক্তি লাভের চিন্তা করা; সোজা কথায় বিভিন্ন মানতাদি করা, দেবদেবীর আশ্রয় নেওয়া, কৃচ্ছ্রতাসাধন করা
ইত্যাদি। কামরাগ হচ্ছে পঞ্চকামগুণ চরিতার্থ করার প্রবল ইচ্ছা যা কামলোকে বার বার
জন্মগ্রহণ করায়। ব্যাপাদ হচ্ছে হিংসা, ক্রোধ; নিজেকে নিয়ে, নিজের প্রিয়জনকে নিয়ে এবং নিজের
শত্রুকে ঘিরে এই ব্যাপাদ বেশি আবর্তিত হয়। রূপরাগ আর অরূপরাগ হচ্ছে যথাক্রমে
রূপলোক (রূপ ব্রহ্মলোক) আর অরূপলোকে উৎপন্ন হয়ে সুখ ভোগ করার ইচ্ছা। মান হচ্ছে
একপ্রকার অহংকার যা অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করতে শেখায়।
ঔদ্ধত্য হচ্ছে চিত্তের অস্থিরতা। অবিদ্যা হচ্ছে অজ্ঞতা যা সত্যকে সত্য বলে জানতে
দেয় না।
এই দশটি সংযোজনের
মধ্যে সৎকায় দৃষ্টি, বিচিকিৎসা, শীলব্রত পরামর্শ ক্ষয় হলে বা ছিন্ন হলে তাঁকে স্রোতাপত্তি ফললাভী বলা
হয়। এই তিনটি ক্ষয়ের পাশাপাশি যাঁর কামরাগ, ব্যাপাদ ক্ষীণ
হয়ে যায় তাঁকে সকৃদাগামী; যাঁর কামরাগ ও ব্যাপাদ সমূলে
ধ্বংস হয় তাঁকে অনাগামী আর যিনি দশটি সংযোজন সমূলে ধ্বংস করেছেন তাঁকে বলা হয়
অর্হৎ। তথাগত বুদ্ধ পর্যায়ভেদে দেশনা করেন। শ্রোতার গ্রহণের সামর্থ্য ভেদেও দেশনা
করেন। আর তাই বেদনাকে কোথাও তিন প্রকার বলেছেন, কোথাও
আবার নয় প্রকার বলেছেন। চিত্তকে কোথাও ৮৯ প্রকার বললেও কোথাও তা আবার ১২১ প্রকারে
বিস্তৃত হয়েছে।
ইতিপূর্বে
উল্লেখ করেছি যে, সৎকায়
দৃষ্টি, বিচিকিৎসা, শীলব্রত
পরামর্শ, কামরাগ, ব্যাপাদ
সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হলেই ব্যক্তির অনাগামী ফল লাভ হয়। কিন্তু এসবের বাইরে গিয়ে
তথাগত বুদ্ধ মানকে অন্যরকম গুরুত্ব দিয়েছেন।
তথাগত বুদ্ধ ‘মান সূত্রে’ বলছেন, হে ভিক্ষুগণ, একটি ধর্ম পরিত্যাগ কর। আমি তোমাদের অনাগামীতার প্রতিভূ রইলাম। সেই
একটি ধর্ম কী? সেই একটি ধর্ম হচ্ছে মান ধর্ম। তথায়
উল্লেখিত হয়েছে :
“মানে মত্ত জান, সকল মানবগণ,
মান গ্রন্থিতে বদ্ধ সদা প্রমত্ত মন;
না জেনে সম্যকভাবে এই অহংকার,
পুনঃ আসিতে হয় এই ভব-সংসার।
যিনি এই অহংকার ত্যজিয়ে ভুবনে,
বিমুক্ত হয়ে বিচরে অহংকার বিনে;
অহংকার গ্রন্থি ছিন্ন করে অতঃপর,
দুঃখমুক্ত হন তিনি শান্তি নিরন্তর।”
মানের কারণে
যে বিমুক্তি সুদূর পরাহত হয় তার একটি আখ্যান বলছি : অতীতে পোট্ঠিল নামে একজন
স্থবির ছিলেন। তিনি সাতজন বুদ্ধের শাসনে ত্রিপিটকধর ছিলেন। ত্রিপিটকধর হওয়ার কারণে
তাঁর মধ্যে একপ্রকার মান কাজ করত। মহাকারুণিক বুদ্ধ ভাবলেন, এই ভিক্ষুর নিজের আত্মমুক্তির কোনো চিন্তা নেই। আর তাই
তার মধ্যে সংবেগ উৎপন্ন করার জন্য বলতে লাগতে লাগলেন, এসো
তুচ্ছ পোট্ঠিল, বন্দনা কর তুচ্ছ পোট্ঠিল, বস তুচ্ছ পোট্ঠিল। পোট্ঠিল স্থবির ভাবলেন, আমি
সম্পূর্ণ ত্রিপিটক ধারণ করি; ভিক্ষু এবং দায়ককে ধর্ম
ব্যাখ্যা করি; তথাপি শাস্তা আমায় কথায় কথায় তুচ্ছ তুচ্ছ
বলে সম্বোধন করছেন। নিশ্চয়ই আমার ধ্যান-সাধনা নেই বলেই শাস্তা এমনটা বলছেন। এই
সংবেগ উৎপন্ন করে তিনি অরণ্যে গিয়ে সাধনা করার জন্য মনস্থির করলেন। অরণ্যাচারী
হওয়ার জন্য পরদিন তিনি রওয়ানা দিলেন।
তিনি ১২০
যোজন হেঁটে ত্রিশজন ভিক্ষু অবস্থান করেন এমন এক অরণ্যে গিয়ে উপস্থিত হলেন।
সেখানকার সংঘপ্রধানকে বললেন, ‘ভন্তে , আমাকে আশ্রয় দান করুন।
আমাকে শরণ দান করুন।’ প্রত্যুত্তরে সংঘপ্রধান বললেন, আবুসো, ‘তুমি তো ধর্মকথিক। আমাদের তো তোমার কাছে কিছু জানবার থাকতে পারে।’ এই বলে তিনি তাঁর কনিষ্ঠ ভিক্ষুর কাছে পোট্ঠিলকে পাঠালেন। এখানে বলে রাখা
প্রয়োজন, ওই অরণ্যে অবস্থানরত ত্রিশজনের সকলেই
ক্ষীণাস্রব (অর্হৎ) ছিলেন। তাঁরা পোট্ঠিল-এর ভেতরে সুপ্তাকারে থাকা মানের কথা
বুঝতে পেরে মান কমানোর জন্য একজন আরেকজনের কাছে পাঠিয়ে দেন। প্রথমজন দ্বিতীয় জনের
কাছে পাঠিয়ে দেন, দ্বিতীয় জন তৃতীয় জনের কাছে, তৃতীয় জন চতুর্থ জনের কাছে, এভাবে সর্বশেষ
ত্রিশতম জনের কাছে পাঠিয়ে পোট্ঠিল-এর মান দূরীভূত করেন।
ত্রিশতম জন
হচ্ছেন একজন সাত বছরের শ্রমণ। তিনি তখন সেলাইয়ের কাজ করছিলেন। এমন সময় পোট্ঠিল
তাঁকে বললেন, ‘আপনি আমাকে শরণ দান করুন।’ শ্রমণ বললেন, ‘অহো আচার্য, আপনি বয়স্ক, বহুশ্রুত, আপনার কাছে অনেক কিছু জানার থাকতে পারে।’ পোট্ঠিল বললেন, ‘এরূপ বলবেন না, আমাকে
আশ্রয় দিন।’ তখন শ্রমণ বললেন, ‘যদি উপদেশ পালেন সক্ষম হন
তাহলে আশ্রয় প্রদান করব।’ পোট্ঠিল বললেন, ‘আমি উপদেশ পালন করব। আপনি
আগুনে প্রবেশ করতে বললে তাই করব।’ শ্রমণ পোট্ঠিল-এর শরীরে দামী
চীবর দেখে সেটা দিয়েই উপদেশ পালেন সক্ষম কিনা পরীক্ষা করতে চাইলেন। আর এজন্য
পোট্ঠিলকে বললেন, ‘চীবরগুলোসহ ঐ সরোবরে নামুন।’ ভন্তে তাই করতে গেলেন। চীবর সামান্য ভেজা মাত্রই শ্রমণ
ভন্তে কে ওঠে আসতে বললেন।
শ্রমণ তখন ভন্তে
কে উপদেশচ্ছলে বললেন, ‘একটি বল্মীকে (উইয়ের ঢিবি) ছয়টি ছিদ্র আছে। সেখানে একটি গুই সাপ প্রবেশ
করল। এখন কেউ যদি সেই সাপকে ধরতে চায় তবে তাকে পাঁচটি ছিদ্র বন্ধ করতে হবে আর ষষ্ঠ
ছিদ্র দিয়ে গুই সাপটিকে ধরতে হবে। তদ্রুপভাবে পঞ্চদ্বারকে বন্ধ করে কেবল মনোদ্বার
দিয়েই কর্ম সম্পাদন করুন। এই অল্প কথাতেই বহুশ্রুত পোট্ঠিল স্থবিরের জ্ঞানপ্রদীপ
যেন প্রজ্জ্বলিত হলো। এদিকে তথাগত ১২০ যোজন দূর হতে সেই ভিক্ষুর সঙ্গে যেন সরাসরি কথা
বলছেন, এভাবে গাথায় প্রকাশ করলেন, ‘যোগ (মনসংযোগ) ধ্যান হতে জ্ঞান
উৎপন্ন হয়, অযোগ হতে জ্ঞানের ক্ষয়
হয়। প্রজ্ঞাবৃদ্ধি ও প্রজ্ঞাক্ষয়ের এই দুই উপায় জ্ঞাত হয়ে যাতে প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পায়
তদ্রুপ কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবে।’ গাথার মর্মার্থ অনুধাবনে পোট্ঠিল স্থবির অর্হত্তফলে প্রতিষ্ঠিত হলেন।
প্রিয় পাঠক, একজন সম্যক সম্বুদ্ধের সান্নিধ্য পেলেই যেখানে অসংখ্য
ব্যক্তি বিমুক্তির সাধ পায়, সেখানে এই পোট্ঠিল স্থবির
সাতজন সম্যক সম্বুদ্ধের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রতিবারেই
তিনি ত্রিপিটকধর ছিলেন। অথচ এই মানের কারণে তিনি বিমুক্তির স্বাদ পাননি। অর্থাৎ
বিমুক্তির পথে অনেক বড় একটি বাধা এই মান। সংযুক্তনিকায়ের সগাথা বর্গে এই মানকে
কাঁধের জোয়ালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
মানকে
পর্যায়ভেদে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। মান দুই প্রকার, যথা : আত্মপ্রশংসা প্রবণতা ও পরনিন্দা প্রবণতা। মান তিন
প্রকার, যথা: আমি শ্রেয়, আমি
সদৃশ, আমি হীন। আবার চার প্রকারে মান উৎপন্ন হয়, যথা: লাভের কারণে, যশের কারণে, প্রশংসার কারণে, সুখের কারণে। মান আবার ছয়
প্রকারে উৎপন্ন হয়, যথা: চক্ষুসম্পদের কারণে, শ্রোত্রসম্পদের কারণে, ঘ্রাণসম্পদের কারণে,
জিহ্বাসম্পদের কারণে, কায়সম্পদের কারণে,
মন সম্পদের কারণে। মান আবার সাত প্রকার: মান, অতিমান, মানাতিমান, অবজ্ঞামূলক
মান, অধিমান, আত্মশ্লাঘা,
মিথ্যামান। মান ও দেমাগ (অহংকার) ভেদে পুনরায় আট কারণে উৎপন্ন
হয়। যেমন: লাভের কারণে মান, অলাভের কারণে দেমাগ, যশের কারণে মান, অযশের কারণে দেমাগ, প্রশংসার কারণে মান, অপ্রশংসার কারণে দেমাগ,
সুখের কারণে মান, দুঃখের কারণে দেমাগ।
মান পুনরায় নয় প্রকার: (১) আমি শ্রেয়ের শ্রেয় মান, (২)
আমি শ্রেয় সদৃশ মান, (৩) আমি শ্রেয়ের চেয়ে হীন মান,
(৪) আমি সদৃশের চেয়ে শ্রেয়, (৫) আমি
সদৃশের সদৃশ মান, (৬) আমি সদৃশের চেয়ে হীন মান, (৭) আমি হীনের চেয়ে শ্রেয় মান, (৮) আমি হীনের
সদৃশ মান, (৯) আমি হীনের অপেক্ষা হীন মান। মান দশ প্রকার।
এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি জাতি, গোত্র, কুলপুত্র, সৌন্দর্য, ধন, শিক্ষা, কর্মায়তন (উন্নত পেশা), শিল্পায়তন (শিল্পবিদ্যা), বিদ্যাস্থান (গবেষণা
বা উন্নত বিদ্যা), শ্রুত বিষয় এবং প্রতিভাণ
(প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব)। মানকে আরো পাঁচ শ্রেণিতে ব্যাখ্যা করা যায়। যথা : (১) শক্তি
মদে মত্ত মানী, (২) ধন মদে মত্ত মানী, (৩) বিদ্যা মদে মত্ত মানী, (৪) কীর্তি মদে
মত্ত মানী, (৫) ঋদ্ধি মদে মত্ত মানী।
শক্তি
মদে মত্ত মানী: নিজেকে বলবান, স্বাস্থ্যবান, শক্তিবান মনে
করে অনেকে এই শক্তি মদে মত্ত হয়ে মান প্রকাশ করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই শক্তি
হারিয়ে যায়। সব শক্তি হারিয়ে আমাদের লাঠিতে ভর দিয়ে চলতে হয়। কেউ বা আবার বিছানায়
শয্যাশায়ী হয়ে যায়। বিছানা থেকে নিজে নিজে ওঠার মতো শক্তিও অবশিষ্ট থাকে না।
ধন
মদে মত্ত মানী: কেউ কেউ সম্পদের মালিক
হয়ে মান দেখায়। অথচ ধনী থেকে গরীব হতে সময় লাগে না। ধনের কারণে মানী হওয়া এই
ব্যক্তিরা সেটা বুঝতে পারেন না।
বিদ্যা
মদে মত্ত মানী: কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষায়
শিক্ষিত হয়ে মানী হয়ে ওঠেন। তুলনামূলক কম শিক্ষিত ব্যক্তিদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে
কথা বলেন।
কীর্তি
মদে মত্ত মানী: নিজের করা নানা কাজের
কারণেও অনেকে মানী হয়ে ওঠেন। নিজেদের কীর্তি যেন নিজেদের বিপদ ডেকে আনে এই
কীর্তিমানদের।
ঋদ্ধি
মদে মত্ত মানী: শমথ ভাবনা করলে
পঞ্চাভিজ্ঞাসহ নানাপ্রকার ঋদ্ধি উৎপন্ন হয়। কেউ কেউ এই ঋদ্ধির কারণে মানী হয়ে
ওঠেন। ফলে ঋদ্ধিমানের এই মান বিমুক্তি লাভের অন্তরায় হয়ে ওঠে। মান তাকে নিচের দিকে
টেনে ধরে। সম্যক পথে এগিয়ে যেতে দেয় না।
মান
বিসর্জনের জন্য তথাগত ছয়টি বিষয় অনুশীলন করতে বলেছেন। যথা : অনুত্তর দর্শন, শ্রেষ্ঠ শ্রবণ, শ্রেষ্ঠ লাভ,
শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, শ্রেষ্ঠ পরিচর্যা
এবং শ্রেষ্ঠ গুণ অনুস্মরণ।
পুনরায় মান
বিসর্জনের জন্য ছয়টি বিষয় অনুশীলন করতে বলেছেন। যথা : বুদ্ধানুস্মৃতি, ধর্মানুস্মৃতি, সংঘানুস্মৃতি,
শীলানুস্মৃতি, ত্যাগানুস্মৃতি এবং
দেবতানুস্মৃতি।
পুনরায় মান
বিসর্জনের জন্য ছয়টি বিষয় অনুশীলন করতে বলেছেন। যথা : অনিত্য সংজ্ঞা, অনিত্যে দুঃখ সংজ্ঞা, দুঃখে
অনাত্ম সংজ্ঞা, প্রহান সংজ্ঞা, বিরাগ
সংজ্ঞা এবং নিরোধ সংজ্ঞা।
বিভিন্ন
কারণে যাদের মাঝে নানাপ্রকার মান বিদ্যমান থাকে তারা বিমুক্তি থেকে দূরেই বলা চলে।
শুরুতেই বলা হয়েছে, মান ত্যাগ
করতে পারলে তথাগত অনাগামীতার প্রতিভূ বা অনাগামী লাভের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আর তাই
আমাদের মান ত্যাগ করতে হবে। মানের কারণে
তুচ্ছ বিষয় নিয়েও অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। সে আমাকে সবার সামনে অপমান করেছে;
আমি এর শেষ দেখে নেব—এভাবে মানের কারণে ক্রোধ উৎপন্ন হয়। সেই ক্রোধ বা রাগ আগুনের চেয়েও ভয়াবহ।
এই ক্রোধের কারণে যে প্রতিশোধ-পরায়ণতা উৎপন্ন হয় তা এক সময় মানুষ হত্যার মতো ঘটনাও
ঘটাতে পারে। অতএব ইহকাল ও পরকাল উভয়কালের সুখের জন্য, চলুন, মান ত্যাগ করি।
সকলেই প্রজ্ঞা লাভ করুক,
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
? লেখক পরিচিতি: উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু, সভাপতি, ত্রিপিটিক রিচার্চ
সোসাইটি, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
সরকারী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট, হাইর্কোট বিভাগ ঢাকা।





