বৌদ্ধ বিহার, ভিক্ষু ও চিকিৎসা প্রসঙ্গ : ডা. রূপম দেওয়ান



প্রায় আড়াই হাজার বৎসর পূর্বে সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধত্ব লাভ করার পর নিজ পিত্রালয়ের বাড়িতে জ্ঞাতি মিলন করেন। এ জ্ঞাতি মিলেনর পরে অনাথপিণ্ডিকের আমন্ত্রণে ভোজন করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই সময়ে জীবক বুদ্ধের চিকিৎসক ছিলেন না। জীবক ছিলেন মগধরাজ বিম্বিসারের রাজচিকিৎসক। তখন অনাথপিণ্ডিকের অনুরোধে রাজা বিম্বিসারের মাধ্যমে বুদ্ধকে চিকিৎসা করে জীবক সুস্থ করে তোলেন। এরপর রাজা বিম্বিসার জীবককে বুদ্ধের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক হিসেবে সেবা করার জন্য হস্তান্তর করেন। বুদ্ধ সুস্থ হবার পর অনাথপিণ্ডিক জেতবন বিহার দান-উৎসর্গ করেন। আবার মগধরাজ বিম্বিসার বুদ্ধকে তাঁর রাজবাড়িতে ফাং বা আমন্ত্রণ করে নিয়ে যান এবং বেণুবন বিহার দান-উৎসর্গ করেন। প্রকৃতপক্ষে জীবক রাজচিকিৎসক হতে বুদ্ধের চিকিৎসক হিসেবে আখ্যায়িত হন। জীবক ছিলেন একজন শৈল্য চিকিৎসক।

প্রাচীন ভারতের চিকিৎসক সংহিতার মধ্যে চরক ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য চিকিৎসক। তাঁরা সমসাময়িক ছিলেন। জীবক চিকিৎসক যা চরক সংহিতায় উল্লেখ আছে। কিছু ইতিহাস টেনে নিয়ে এবার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চিকিৎসা প্রসঙ্গ তুলে ধরলাম। এই বিষয়ে বর্তমান বিহারগুলোতে ভিক্ষুদেরকে তিনটি বিভাগে বিভক্ত করলাম। যথা : (১) সাধারণ অসুস্থতা, (২) বিশেষ অসুস্থতা এবং (৩) জটিল অবস্থার অসুস্থতা। যে-সকল ভিক্ষুরা অসুস্থ হয়ে পড়েন, অনেক সময় তাঁরা পিণ্ডাচরণ করতে পারেন না। তখন তাঁদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ ও জিজ্ঞাসাবাদ করার পর উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হলেও একটা বিষয় অজ্ঞাত থেকে যায়। বিষয়টা হলো রোগীর খাওয়াদাওয়া, পথ্যাপথ্যগুলো সঠিকভাবে নির্দেশনা করা হয় না।

প্রচলিত চিকিৎসকরা ওই ব্যবস্থাপত্র অত্যন্ত সীমিতভাবে খাওয়াদাওয়া, পথ্যাপথ্য নির্দেশনা দেন। এতে রোগী পরিপূর্ণভাবে সুস্থতা লাভ করতে পারেন না। রোগী যেই রোগে আক্রান্ত ছিল কোর্স অনুপাতে চিকিৎসা করে ভালো দেখা গেলেও ঠিক দুই মাস পর আবার সেই রোগ দেখা দিল। এমন রোগী ভিক্ষু আমার কাছে আসেন। প্রথম বার ওই ভিক্ষুকে টাইফয়েড (Blood for Salmonila typhi test) করে Positive ছিল। কিন্তু সেই একই রোগ আবার দুই মাস পর পর দেখা দিলে তখন আবার একই Ealamonia পরীক্ষা করে কোনো টাইফয়েড জীবাণু পাওয়া গেল না। Abtibiotic ঔষধ খেলে কিছুদিন বা একমাস সুস্থ থাকার পর আবার বার বার একই জ্বর দেখা দেয়। তখন কোনো আরোগ্য না পেয়ে তাঁকে আমি WIDAL (ভাইডাল Test) দিয়ে দেখলাম। ভাইডাল Test দিয়ে সংখ্যাগুলো দেখা গেল।
            TO-titrc-1:3 60
            AH-titrc-1:3 20
            BH-titrc-1:1 60 = Enteric fever (Antilogyআন্ত্রিক জ্বর)
            TH-titrc-1:1 60

এই সংখ্যাগুলো দেখে রোগীকে রোগ-বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলাম; তিনি বর্ণনা দিলেন পায়খানা দুর্গন্ধ। তরতাজা মাছ রান্না খেয়ে নাকি জ্বর বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বদা শীত করে ভিতরে জ্বর অনুভব। থার্মোমিটারে তাপ কম আসে। এই বিষয়ে আমি জনৈক এল্যোপ্যাথি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে বলেছিলাম, এটা কি জ্বর? বার বার জ্বর আসে। Antibiotic ঔষধ খেলে সাময়িক ভালো থাকে। আবার জ্বর আসে। তিনি আবার Salmonila typhi পরীক্ষা করতে বললেন। পরীক্ষার পর আবার Positive হয়। রোগী ভিক্ষু আর এলোপ্যাথি খেতে রাজি নন।

আমি দেখলাম, Widal test অনুসারে Antibody সৃষ্টি হয়েছে। এখন test-এ টাইফয়েড আসে না। তাই আন্ত্রিক জ্বরের (Enteric fever) চিকিৎসা করে ওই ভিক্ষুকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলি। আবার Salmonila Widal test করে সম্পূর্ণ Negative এসে যায়। এখানে শুধু একজন টাইফয়েড রোগী নিয়ে আলোচনা করলাম। দেখলাম, একজন টাইফয়েড রোগীর পুরাতন অবস্থায় Antibody হয়ে আন্ত্রিক জ্বর আসে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাতে রোগ-রোগী বিশেষে পথ্যাপথ খাওয়া ঠিকভাবে পালন করলে প্রকৃত আরোগ্য লাভ করা যায়। নতুন বা পুরাতন টাইফয়েড হোক, ঠিকমতো বাছা করে না খেলে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব হয় না। বর্তমান জগতে নতুন নতুন রোগ এবং বিচিত্র ধরনের রোগী দেখলে অবাক হতে হয়।

এলার্জি, দাদ, গোলাকৃতি চুলকানি চর্মরোগ, ব্রণ, এলার্জি-ব্রণ, খোসপাঁচড়া, সোরাইসিস, SLE ইরিথিমা, ছৈয়দ কদমা, কালোতিল জড়ুল, আঁচিল, জোটনাল ওয়ার্ট (যৌনাঙ্গে আচিল), শ্বেতী রোগ, গলিত কুষ্টরোগ, ধবল কুষ্ঠ ব্যাধি, (আর্টিকেরিয়া/আমবাত/পিপঁড়াডাম) লম্বা আকৃতি চুলকানি চর্মরোগ, বিষাক্ত চর্মক্ষত, রনঝড়ে। চর্ম ক্যান্সার, হার্পিস সিমপ্লেক্স (মুখমণ্ডলে জলফোসকা), হার্পিস জোষ্টার (বড় বড় ফোসকা)। ইম্পিটিগো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফোসকা (কটুজৌন্য) ঘামাচির মতো ও ফোসকার মতো দেখতে। পায়ে ও হাতের আঙ্গুলে হাজা (পাকুই, পাক্কো); বার্জার ডিজিস (ঘা-পাক্কো), অর্থাৎ হাতে বা পায়ে আঙ্গুলে ঘা বড় ক্ষত হয়ে আঙ্গুল ছিড়ে যায়। এই রোগটি সাধারণত ধুমপানের কারণে হয়ে থাকে। যতগুলো চর্মরোগের বিবরণ দিলাম সকল লোকেরই এগুলো কমবেশি থাকে। যে-কোনো চর্মরোগ যদি ভিক্ষুদের হয়ে থাকে তখন যে-কোনো এলার্জি জাতীয় খাদ্য খেলে বাড়ে (Food Allergy)

কোনো কোনো রোগের সাথে Food Allergy-এর সম্পর্ক নেই, খেলেও বাড়ে না। Indian ডাক্তারেরা খাওয়াদাওয়া, পথ্যাপথ্য বিষয়ে একটা গাইড বুক দিয়ে দেয়। আমি নিজেই Pypass (হার্ট সার্জারী) করেছিলাম। আমাকে পথ্যাপথ্য বিষয়ে একটা সুন্দর গাইড বুক দেয়া হয়েছিল। এখন, আমাদের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চিকিৎসা তদারকি কমিটি নেই। তাছাড়া শ্রদ্ধেয় ভন্তে রা বলতে পারেন না যে আমি এটা খেতে পারি না, ওটা খেতে পারি না। মোটকথা নিজে খুঁজে খাওয়ার বিধান নেই। রোগী ভিক্ষুদের জন্য ছোয়েং-এ দায়ক-দায়িকারা কী কী খাবার দেয়া উচিত তার কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা নেই। রোগ ও রোগী বিশেষে খাদ্য-পথ্য নির্বাচন করে দেয়া শ্রেয়। নিরামিষ ও আমিষ উভয়টাই প্রয়োজন রোগী বিশেষে। ১৯৯২ সালে কলকাতায় নিউট্রিশন পুষ্টিতত্ত্ব শীর্ষক সেমিনার হয়আমিষ বনাম নিরামিষ।

 অনেক বিতর্কের পর নিরামিষ জয় লাভ করলো। তবে বর্তমান যুগের প্রেক্ষিতে জটিল জটিল রোগ-বিবর্তনের ফলে নতুন নতুন প্রযুক্তি, ঔষধ, অপারেশনের জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি বের হচ্ছে। তাই বলতে হয়, আমিষ খাদ্যও একেবারে বাতিল করা যায় না। আমিষেরও প্রয়োজন আছে। রোগ-রোগীর বিশেষে খাদ্য পথ্যাপথ্য রোগী ভিক্ষুদের ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত। অসুস্থ ভিক্ষুদের পিণ্ডচরণে না গিয়ে বিহারে যথোপযুক্ত ভোজন করা দরকার। সুস্থ ভিক্ষুরা এ বিষয়ে রোগীদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করতে পারেন। প্রাচীন ভারতীয় সন্ন্যাসীরা নিরামিষ খেয়ে দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন। আমি নিম্নে পথ্য ও খাদ্যের তালিকার বিবরণ দিলাম। চিকিৎসা তদারকি কমিটির লোকেরা ব্যবস্থাপনা নিতে পারেন।

উদ্ভিদ জাতীয় খাদ্যের তালিকাশীতের মৌসুমে: ফুলকপি, বাধাকপি, মুলা, মুলা শাক, শস্য শাক, কপি শাক, রায় শাক, ঢেঁকি শাক, লাল শাক, আলু, পেঁপে। সবুজ বেগুন, কালো বেগুন, জুম্ম বেগুনযাদের এলার্জি আছে তারা এগুলো খেতে পারবেন না। মোটকথা যাদের চুলকানি, চর্মরোগ, খোসপাঁচড়া, দাদ আছে তাদের কচু, কচুর লতি, তিতা করলা, সিগন শাক, তিতা শাক, তিতা কচু খাওয়া নিষেধ। ঢেড়স, গাজর, শালগম খাবেন। যাদের এলার্জি নেই তারা খাবেন। যাদের থাইফয়েড, গলগণ্ড রোগ আছে তারা গাজর, শালগম, বাধাকপি, কাঁচা পেঁয়াজ, খাওয়া নিষেধ। জংলী আলু, মাটির নিচের জিনিস খাওয়া নিষেধ।

যেগুলো খাবেন : থাইরয়েড সমস্যায় প্রচুর সামুদ্রিক মাছ, পেঁপে, শিম, ঢেড়স খাবেন। ঝিংগা, চিচিংগা, পটল, লাল শাক, শস্য শাক, পালং শাক, মুলা, শসা, ফল জাতীয় খাবার, আলু, বেগুন, কচু, মুরগির মাংস খাবেন। যাদের বাতের ব্যথা আছে তারা খাবেন না : মিষ্টি লাউ, কদু কুমড়া, খনাগুলা, বিলাতি ধন্যাপাতা, কলাটেটার, পুই শাক, তিতা করলা, তিতা শাক, কলমি শাক, কদু শাক, ইলিশ মাছ, হাঙ্গর মাছ, তেলাপিয়া মাছ, কাতাল মাছ, বোয়াল মাছ, বাচা মাছ, চিতল মাছ। যাদের বাতের ব্যথা নেই তারা খাবেন : ঝিংগা, চিচিংগা, কয়দা, পরোল, পটল, মসুর ডাল, লাল মারেস শাক, সবুজ মারেস শাক, ডাটা লাল শাক, ময়লা শাক, টেংরা মাছ, কেচকি মাছ; সেই সাথে ছোট ছোট চিংড়ি মাছ মিশ্রিত থাকে এগুলো বেছে ফেলে দিবেন। যাদের হাই-প্রেসার আছে তারা দেশী মুরগির ডিম খেতে পারবেন না। ফার্মের ব্রয়লার ডিম ক্ষতিকর। দেশী মুরগির মাংস, মুরগির জুস চলবে।

Flatulence with ulcerগ্যাস্ট্রাইটিস ও গ্যাস্ট্রিক আলসারের জন্য যাদের পেতে গ্যাস জমে, ঢেকুর, চুকা ঢেকুর, টক ঢেকুর হয়; পেট-ডাক মারে, বমি বমি ভাব, বদহজম, বদ্ধ বায়ু (Bowel gas) অরুচি হয়, পায়খানা কখনো শক্ত কখনো নরম, কোষ্ঠকাঠিন্যতা বা Gas formation হয় তারা মিষ্টি লাউ, কুমড়া, বড় আলু, জংলী আলু, টমেটো, টক খাদ্য, মালতা, লেবু, জাম্বুরা, তেতুল, তিতা কচু, কচুলতি, সিগন শাক, তিতা করলা, ছাগলের মাংস, শুকর মাংস, হাঁসের মাংস, শামুক, কাঁকড়া, মরিচ খুব সীমিত খাবেন। যেগুলো খাবেন : আলসারে কাঁচা মরিচ, তরকারি খুব কম খাবেন। ভাত খাওয়ার পর কমলা, আপেল, কালো জাম, ডালিম/আনারস খাবেন। আলসারে নরম ভাত, লঘু পথ্য, হালকা তরকারি খাবেন; বাতের বেদনায় যে-সব খাদ্য খাওয়ার কথা লেখা আছে সেগুলো খাবেন। এখানে আর লেখলাম না।

হার্টের রোগীর জন্য সমস্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য, মাংস, বেশি তৈলাক্ত খাদ্য বর্জনীয়। সিদ্ধ খাবার সবচেয়ে ভালো, সিদ্ধ চাউল। খাওয়া নিষেধ : ডিমের লাল কুসুম, চিংড়ি মাছ, মাটির নিচে উৎপন্ন খাদ্যজংলী আলু, বড় আলু, মিষ্টি আলু। রাতে ভাত না খাওয়া। সকালের নাস্তা আটার রুটি, রাতেও রুটি, দুপুরে ভাত, অথবা সকালে বা দুপুরে সিদ্ধ চাউলের ভাত। ভারতের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী বলেছেন, সিদ্ধ চালের ভাত, সিদ্ধ তরকারি রান্না সবচেয়ে ভালো; যত প্রকার ফ্যাটমুক্ত তেল হোক না কেন, তেলের নামই তেল থাকে। কথা হলো মানুষের বর্তমান সামাজিক জীবনধারার মধ্যে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কোনো তেল ছাড়া রান্না হয় না। ইন্ডিয়ার ফরচুর তেল, মালয়েশিয়ার সান ফ্লাওয়ার তেল, ইতালির সান ফ্লাওয়ার তেল দিয়ে যদি রান্নার ব্যবস্থাপনা হয়, তবে তেমন কোনো ঝুকি থাকবে না। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের সয়াবিন ও সরিষার তেলে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে।

আজকাল সরিষার তেলও প্রচুর ভেজালযুক্ত, ৫০% রং দেয়া থাকে। কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য না খাওয়া ভালো। নতুন চালের ভাতে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে। গরুর দুধ, কাঁচা লবণ, চানাচুর, বাটার বন, চিপস, নুডুলস্, বিনি চালের ভাত খাওয়া নিষেধ। যেগুলো খাবেন : শাকসবজি, পটল, ঝিংগা, চিচিংগা, পেঁপে, পরোল, সীম, ছোলা, ফুলকপি, বাধাকপি, লাল শাক, মুলা, মসুর ডাল, কলা খাবেন। মুরগির মাংস, কবুতরের মাংস, আপেল, কমলা, আঙ্গুর, কালো জাম, মালতা, লো-ফ্যাট দুধ ডায়েট খাবেন। যেমন : MARK দুধ (Made in Australia) দুধ খাবেন; কোলেস্টেরল খুব কম থাকে এবং ক্ষতি করে না। মাসে তিনটা দেশী মুরগির ডিম খাওয়া যাবে। মোটকথা যেগুলোর বিবরণ দেয়া হলো সেগুলো লঘু পথ্য ও মধ্যম পথ্য হিসেবে খাওয়া যাবে।

রোগী ভিক্ষুদের জন্য দরকারী পথ্যাপথ্য বিষয় এখানেই শেষ করলাম। এছাড়া আরেকটা বিষয়ে আলোচনা করা যাক। যাদের পুরাতন সর্দিকাশি (Cold allergy Sinusitis), সর্দি প্রদাহ, Tonsil বড় হওয়া, ব্যথা করা, গলা ব্যথা করা, ডাষ্ট এলার্জি আছে তাদের অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। এসব রোগে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করে স্বাভাবিক থাকা যায়। তৃতীয় ও চতুর্থ বিশ্বের দেশগুলোর লোকদের এই রোগগুলো বেশি হয়। পরিবেশ দূষণ, ধুলাবালি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া, বৃষ্টিতে ভেজা এবং ঘর ও বিছানাপত্র ঝাড় দেয়া, ঘর ও উঠান ঝাড় দেয়া থেকে নাকে, চোখে, কানে ধুলাবালি প্রবেশ করে থাকে। দীর্ঘ দিন এমন পরিবেশে থাকলে সাইনোসাইটিস, নাকে পলিপ (মাংস বৃদ্ধি), নাসিকার হাড় বড় হয়ে বক্র হয়, Adenoid gland swell হয়। গলায় টনসিলে Infection  হয়, ব্যথা হয়, ফুলে যাওয়া, জটিল হয়ে যায়, পরে টনসিল অপারেশন করতে বাধ্য হয়। এতে মাথা টনটন করে, গলায় কফ, শ্লেষ্মা, কাশি হয়, মোটেও ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে না। গরমে আরাম বোধ করে। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।

প্রতিকার: রাস্তায় যাওয়ার সময় মাস্ক লাগাবেন। ঘরে ঝাড় দেয়ার পূর্বে ও গোসল করার পূর্বে দুই কানে তুলা দেবেন। মাঝে মাঝে ভালো (Cotton bud)  দিয়ে হালকাভাবে কান পরিষ্কার করবেন। ফ্রিজের পানি (Cold water) মাখন, ঘি, বাটার বন, চাম্পা কলা, সাগর কলা, কচু, কচুলতি, ঢেঁড়স চিকিৎসা চলাকালীন পর্যন্ত খাবেন না। ভালো হলে খাওয়া যাবে। তবুও খাদ্য সীমিত আকারে খেতে হবে।

চিকিৎসা: হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় দীর্ঘকাল উপশম থাকা যায়। ময়লাযুক্ত পরিবেশ ও ধুলাবালি থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন। বিশুদ্ধ পরিবেশে থাকবেন। প্রতিদিন শোয়ার পূর্বে একটা বড় চীনামাটির মগে গরম পানি নিয়ে রুমাল বেড়িয়ে নাক পর্যন্ত ঢেকে শ্বাস (গরম পানির ভাপ) টানবেন এবং নিশ্বাস ফেলবেন কমপক্ষে ৫ মিনিট পর্যন্ত। নাক থেকে অনেক ময়লা বের হয়ে যাবে। প্রতি রাতে ৫ মিনিট এভাবে করলে ভালো থাকা যায়। একই সঙ্গে হোমিওপ্যাথি ঔষধ খেলে সুস্থ থাকা সম্ভব।
জয়তু বুদ্ধ সাসনম্‌

? লেখক পরিচিতি : ডা. রূপম দেওয়ান, বিশিষ্ট হোমওিপ্যাথি চিকিৎসক, রাঙামাটি।

শেয়ার:

ফেইসবুক একাউন্ট দিয়ে কমেন্ট করুন।

ফটোগ্রাপি

জনপ্রিয় পোষ্ট

অনুসরণ করুন

facebook

ক্যাটাগরি

    প্রবন্ধ

সাম্প্রতিক পোষ্ট

অন্যান্য সাইট

  • Suttacentral
  • Kalpataruboi
  • Dhammatext

Featured Post

একটু সহানুভূতি : শ্রীমৎ অভিজ্ঞানন্দ ভিক্ষু

হে প্রভু—— মানবতার আকাশে আজ আগের মতো হয় না সোনালী স্নিগ্ধ ভোর জটপাকে কেটে যায় সময়ের প্রতিটি শাশ্বত প্রহর এ কেমন ঘোর, কী নিদা...

Pages

Theme Support

Need our help to upload or customize this blogger template? Contact me with details about the theme customization you need.