হে প্রভু—— মানবতার আকাশে আজ
আগের মতো হয় না সোনালী স্নিগ্ধ ভোর
জটপাকে কেটে যায় সময়ের প্রতিটি শাশ্বত প্রহর
এ কেমন ঘোর, কী নিদারুণ ঘোর।
চারিদিকে আজ নিভুনিভু মানবতার দীপশিখা
দমকা বাতাসে যেন আলো ফুটাতে চায়লেও পারে না
হঠাৎ নিভে যেতে পারে- যায় যায় এই করুণ অবস্থা
তাই মৈত্রী-করুণা-মুদিতা-উপেক্ষার বড়ো প্রয়োজন।
মানবতা রুঁখতে চায় পারে না, নিয়তির খাঁচায় বন্দি
আজ সে বড়ো নিপিড়ীত-অসহায় শক্তিহীন দূর্বল
তার ক্ষত-বিক্ষত আহত হাত-পা, পিছমোড়া শেকলে বাঁধা
নিষ্টুরতায় জিম্মি সে গতিহীন স্তব্ধ তার হাঁটা-চলা।
চোখের কোণে জল করে তলোমল, কাদেঁ মানবতা
কতো কিছু দেখে শুনে তবু বাকরুদ্ধ নিরব-নিস্তব্ধ
পাহাড়ার বেষ্টনী ঘিরে তৈরী শৃঙ্গের মতো উচ্চ প্রাচীর
পাশে যেন দাড়িঁয়ে ঘাতক, হাতে এই উদ্যত তলোয়ার।
মানবতার মুখে ধুলো দিয়ে আজ যুদ্ধের আহ্বান
নিমিষে করে দিতে চায় যেন স্বর্গ-মর্ত্য শ্মশান
শক্তির খেলা চলে চারদিকে দূর্বলকে করে উপহাস
ক্ষমতার কাছে আজ সবকিছুই তামাশা, একি পরিহাস!
লাগামহীন চাহিদা, হিংসালু দৃষ্টি, যেন ভষ্ম করে দিতে চায়
বিমুঢ়তার ছায়া পিশাশের মতো পশ্চাতে লাগোয়া
পার্থিব জিনিসে আজ ভোগের তীব্র লোভ-লালসা
প্রতিযোগিতায় যেন হিরিক পড়েছে একে অপরের।
উন্মত্ত অস্ত্রের মাতাল হুড়মুড়ি লেগেছে সবখানে
মুহুর্তে কেড়ে নেয় উদ্দাম ফুরফুরে তাজা প্রাণ, হায়!
যেখানে প্রাচীরের মতো বাধা ডিঙিয়ে যাওয়া
বড়ো দুষ্কর, মানবতা সেখানে অসহায়-নিষ্প্রাণ।
হে প্রভু— বৈশ্বয়িক জিনিসে জ্বলমলে আলোকিত
কিন্তু,মানবতা অবহেলিত এ থমথমে তিমির নিশায়
তোমার করুণা চাহি বারাবার অশান্ত এ ধরায়
চাই নিস্বার্থ স্নেহ-ভালোবাসা, চাই সকলের সম্প্রীতি
ক্ষমা-মৈত্রী-সহিঞ্চুতা চাই, হে প্রভু চাই একটু সহানুভূতি।






