বনভন্তে চেয়েছিলেন সমাজ এগিয়ে যাক : জিনবোধি মহাথের

ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে মহাপুণ্যবান মহামানব আর্যশ্রাবক শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে)-এর শুভ আবির্ভাব হয়েছিল। বৌদ্ধ জাতির ভাগ্যাকাশে উদিত বনভন্তে নামক প্রজ্ঞা-রবির প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের পার্বত্য জনপদ নব আলোয় আলোকিত হয়েছিল। নব প্রেরণায় ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি-সাহস খুঁজে পেয়েছিল পাহাড়ের বৌদ্ধ গণমানুষ। না-হিন্দু, না-বৌদ্ধ ধরনের কিম্ভূতকিমাকার সামাজিক অবয়ব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের বৌদ্ধ সত্তা-বোধের বিকাশে সম্বিৎ ফিরে পেয়েছিল।

বুদ্ধের শাসনকালের নির্ধারিত পাঁচ হাজার বছরের প্রায় অর্ধেকটা অতিক্রান্ত। অর্থাৎ এই শাসনকালের মধ্য থেকে প্রায় তিন হাজার বছর যায় যায় করছে। বিশ্বময় বৌদ্ধ জনতার জাগরণী কল্লোল এখনো থেমে নেই। ঊনবিংশ শতাব্দীর চৌকাঠ পেরিয়ে বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে দাঁড়িয়ে আজও বুদ্ধের শাসন অভিবৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগের সুযোগ বিদ্যমান।

এই সেই বনভন্তে, যিনি এ দেশের বৌদ্ধ জাতির প্রাণে সুপ্তি ভাঙার গান শুনিয়েছিলেন। প্রচার সর্বস্ব হিন্দু ধর্ম ও খ্রিস্টধর্ম এবং নাস্তিক্য কম্যুনিজমের বিষবাষ্পে ধূমায়িত পার্বত্য জনপদে এক সময় নিভু নিভু হয়ে জ্বলেছিল সদ্ধর্মের ক্ষীণ দীপশিখা; শক্ত হাতে সদ্ধর্মের হাল ধরার কেউই ছিলেন না। পূজ্য বনভন্তের উদ্দেশ্য অপর সম্প্রদায়ের ভিক্ষুদের অনেকেই বলেছিলেন, চাকমাদের বুঝাও ... ইত্যাদি। অতিসত্য কথা যে প্রকৃত বৌদ্ধধর্ম, বৌদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ সৃজনে বনভন্তের বৈপ্লবিক উত্থানের সামনে অবৌদ্ধোচিত মনগড়া সংস্কৃতির ধকল দাঁড়াতেই পারেনি। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই শতসহস্র কোটি বার পূজ্য বনভন্তের প্রতি। তাঁর সূচিত ধর্মাভিযান যেন অব্যাহত থাকে। দেশনা চক্রের পথে যেন কোনো বাধা না আসে।

পূজ্য বনভন্তে চেয়েছিলেন—মাস্টার্স, ডক্টরেট, এম.বি.বি.এস, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীধারীরা, উচ্চ শিক্ষিতরা প্রব্রজ্যাধর্ম গ্রহণ করে তাঁদের মেধা-মননকে বৌদ্ধ সমাজের প্রগতির কাজে নিয়োজিত করুক। ম্রিয়মান ক্ষয়িষ্ণু বৌদ্ধ সমাজকে এগিয়ে নিতে দক্ষ, যোগ্য, উচ্চ শিক্ষিত পারদর্শী সংঘশক্তির বিকল্প নেই। বৌদ্ধ প্রতিরূপ দেশগুলোতে সুযোগ্য সুদক্ষ ভিক্ষুসংঘ সেই দেশগুলোর অনুকূল পরিবেশে সগৌরবে সদ্ধর্মের স্থিতি বিধানে নিয়োজিত। আমরা অপ্রতিরূপ দেশের দুর্ভাগা বৌদ্ধ জাতি সর্বদাই বিভিন্ন সংঘাত, অমৈত্রী ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলা করছি। সর্বক্ষণ দুলছি অস্তিত্ব সংকটের দোলাচলে। আমরা জানি, পূজ্য বনভন্তেধনপাতা, দীঘিনালা ও তিনটিলার গভীর বনে অবস্থান করেছিলেন। বর্ষাবাস যাপন করেছিলেন আরও কিছু বিহারে, খাগড়াছড়ির ধর্মপুর আর্য বন বিহারে। যেই বিহারে তিনি অবস্থান করেছিলেন, সেই বিহারই হয়ে উঠেছে শাখা বন বিহার। পাহাড়ের আনাচে-কানাচে রাজবন বিহারের শাখা বন বিহারগুলোতে ছড়িয়ে রয়েছেন বনভন্তের সুযোগ্য শিষ্য-প্রশিষ্যবর্গ—যাঁদের কর্মযোগের সবকিছুই বুদ্ধশাসনের হিতৈষণায় নিবেদিত।

বনভন্তের ভিক্ষুসংঘের মধ্য থেকে প্রায় প্রতিবছর ‘স্থবির’ ও ‘মহাস্থবির’ পদে উন্নীত হন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংঘিক ব্যক্তিত্ব। যাদের ভেতরে রয়েছেন অনেক উচ্চ শিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত, মধ্যম শিক্ষিত ভিক্ষু-শ্রমণ। এদের মধ্যে বয়সে কেউ কনিষ্ঠ, কেউ জ্যেষ্ঠ, কেউ প্রবীণ, কেউ নবীন। বয়স ও শিক্ষার মাপকাঠি দিয়ে এসব স্থবির-মহাস্থবিরদের উচ্চতার পরিমাপ করা সম্ভব নয়, বরং তাঁদের পূর্ব জন্মার্জিত পুণ্য পারমী, কুশল সংস্কার এবং পারমার্থিক জ্ঞানের পরিধিই প্রধান বিবেচ্য। যাঁরা বনভন্তের যোগ্য উত্তরসূরি—বনভন্তের ভাবাদর্শ, কর্মযোগ, দর্শন বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ দেশনা প্রদানে সক্ষম এবং সুচারুভাবে সত্যপথে চলতে সক্ষম তাঁরাই বৌদ্ধ সমাজের অগ্রগতির রথকে সচল রাখতে সক্ষম হবেন। এটাই স্বাভাবিক যে, ভবিষ্যতে যদি ধর্মীয় জ্ঞান লাভে উদ্যমী এবং উচ্চ ডিগ্রিধারীরা প্রব্রজিত হতে থাকেন, তাহলে বনভন্তের স্বপ্নগাথা পরিপূরণের পথ প্রশস্ত হবে। আমাদের কাঙ্ক্ষিত আদর্শ বৌদ্ধ সমাজ, আদর্শ বৌদ্ধপল্লী বিনির্মাণ সহজতর হবে।

আজকের বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা ও অরুণাচলে প্রতিষ্ঠিত রাজবন বিহারের শাখাগুলোসহ পার্বত্যাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শাখা বন বিহারগুলোর সংশ্লিষ্ট সকল উপাসক-উপাসিকাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে ‘বনভন্তের সূচিত আদর্শ বৌদ্ধপল্লীর রূপরেখা’ শীর্ষক আলোচনার বিশেষ প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। ‘সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্তু।’

লেখক পরিচিতি: শ্রীমৎ জিনবোধি মহাথের, অধ্যক্ষ, বোধিপুর বন বিহার, রাঙামাটি; প্রতিষ্ঠাতা, ত্রিশরণ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং ত্রৈমাসিক বোধিধারা (এটি ২০১৯ সালে “অনাবরণ” স্মরণিকায় প্রকাশিত হয়েছে)।

শেয়ার:

অহিংসা ও সৌর্হাদ্যর্পূণ পরিবেশে জীবনধারণ: বৌদ্ধধর্ম : ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা বিশ্ববৌদ্ধদের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব। এ দিনটি বিশ্ববৌদ্ধদের নিকট পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। ভগবান বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার বিশাখা নক্ষত্রে রাজকুমার সিদ্ধার্থরূপে কপিলাবস্তু লুম্বিনী কাননে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে আলোকপ্রাপ্ত অর্থাৎ সর্বতৃষ্ণা ক্ষয় সাধন করে বোধিজ্ঞান লাভ করে জগৎপূজ্য ‘বুদ্ধ’ হয়েছিলেন। বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। বুদ্ধের জীবনে মহাপবিত্র ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধপূর্ণিমা বৌদ্ধদের নিকট অতি গৌরবের ও মহাপবিত্র দিন হিসেবে উদ্যাপিত হয়। শুভ বুদ্ধপূর্ণিমার আলোকে অহিংসিত হয়ে কীভাবে আমাদের জীবন গঠন করা যায় তা আলোকপাত করব। শুধু বিশেষ আকার বা একটি কাঠামোর জন্য মানুষ ‘মানুষ’ হিসেবে বিবেচিত হন না। মানুষ হিসেবে আমাদের রয়েছে বুদ্ধিবৃত্তি নামক বিশেষ একটি গুণ, যার ধর্ম হলো যে কোনো বিষয়ে আমাদের বিচারের ক্ষমতা বা মূল্যায়নের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।

আজ থেকে আড়াই হাজার বছররেও পূর্বে এ ভূভাগে জন্ম নেয়া তথাগত বুদ্ধ দাবী করেছিলেন— সর্ব জীবের স্ব স্ব স্থানে স্বাধীন অবস্থান। শুধু মানুষের জন্য নয়, তাঁর মৈত্রীভাব পৌঁছে গিয়েছিল দৃষ্টিগোচর হয় কিংবা দৃষ্টিগোচর হয় না এমন সকল প্রাণীদের কাছে। তাই তো তিনি বলেছিলেন, ‘সব্বে সত্ত্বা সুখিতা হোন্তু’ অর্থাৎ জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। বোধের অমৃত অবগাহন হলে প্রাজ্ঞদের সকলে স্বীকার করেন যে জাতপ্রথা, ধর্ম-র্বণ-গোত্র বিভাজন নিষ্ফল, নিরর্থক। বোধের বাতায়ন রুদ্ধ থাকার দরুন অন্ধ প্রকোষ্ঠে মানুষ মানুষের সাথে, ধর্ম ধর্মের সাথে, গোত্র গোত্রের সাথে, পিতা পুত্রের সাথে, পুত্র পিতার সাথে, ভাই ভাইয়ের সাথে, বন্ধু বন্ধুর সাথে নানান স্বার্থের বশে কলহরত। মহান বুদ্ধ বলেন, কলহে জর্জরিত অন্ধ মানুষ জানে না, সে নিজেই যেখানে নিজের নয়, অন্যকে অধীনে হাতের মুঠোতে বশ করতে চায় কী করে! বুদ্ধের শিক্ষা বা দেশনা পাঠোদ্ধার করলে দেখা যায়, জীব মাত্রেই স্বাধীন। পারিবারিক, সামাজক, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয়ভাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই স্বাধীন অংশগ্রহণ, স্বতন্ত্র জীবনযাপনের অধিকার রাখে। এখানে কোনো প্রকার বৈষম্য দেখা দিলে তা বুদ্ধ ধর্মের পরিপন্থি বলেই গণ্য হবে।

মানুষ হিসেবে আমাদের বাড়তি কিছু সুযোগ-সুবধিা রয়েছে...শুধু আত্মর্স্বাথ চরিতার্থ করাই নয়, অর্পিত দায়ত্বি সম্পাদেনর প্রতি সবিশেষ মনোযোগ, সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পালনীয়। সর্বজীবের প্রতি মানবকি র্কতব্য পালেনর জন্য কারো নির্দেশের অপেক্ষায় থাকাটাও অনেক সময় অমানবিক। আমরা মানুষ হিসেবে মানুষের গরজে মঙ্গলকর কর্তব্য পালন করবো। এটা মা, মাটি ও মানুষের ধর্ম, এটা জগত ও জীবের প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ ধর্ম। আমরা স্মরণ করতে পারি এ বিষয়ে তথাগত বলেছেন, মা যেভাবে সকল আপদ বিপদ থেকে নিজের সন্তানকে অপার মৈত্রীবন্ধনে বুকে জড়িয়ে রাখে, রক্ষা করে তোমরাও সেরূপ মৈত্রীভাব সকল জীবের প্রতি পোষণ করবে। বাংলাদেশে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত জনবহুল একটি দেশ। পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ আমাদের এই মাতৃভূমি। নাতিশীতোঞ্চ আবহাওয়ার কারণে আমাদের সামগ্রিক অবস্থায় বিশেষ প্রভাব রয়েছে ঐতিহাসিকভাবে। যদি দেখি বৌদ্ধরা কখনো ধর্মীয় উন্মাদনায় আস্থাশীল নয়, তারা জ্ঞানের বাহনে চড়ে জীবনযাপন করতে আগ্রহী।

এ দেশ চারশত বছর বৌদ্ধরা শাসন করে (পাল রাজাগণ), যাকে ঐতিহাসিকগণ বাংলার র্স্বণযুগ বলেই মত দেন। পালদের রাজত্বকালে সকল ধর্মের সহাবস্থান বাংলার যেকোনো সময়ের চেয়ে উচ্চস্থান করে নিয়ে আজো সোনার মতো উজ্জ্বল্য ছড়াচ্ছে। আমরা বুদ্ধের এ কথা কখনো ভুলি না যে, কর্ম সুফল ও কুফলদায়ী, যার যার কর্ম স্ব স্ব অবস্থানে ভোগ করতে হবে। জীব মাত্রেই কর্মের অধীন। এমতাবস্থায় আমরা বিশেষ ধর্মের বাণী অথবা ব্যক্তিগত মতামত জোর করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে কারো ওপর প্রতষ্ঠিা করতে পারি না। প্রত্যকেই নিজের মতো করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রাখে যা মতামতের ভিত্তিতে খণ্ডনও করা যায়। আমি যেরূপ আমার নিজের মতো মত প্রকাশ করতে পারি, করতে চাই, অন্যজনেরও ঠিক একইভাবে তার মতো করে মত প্রকাশ করার একান্ত স্বাধীনতা শতভাগ রয়েছে। জ্ঞানদৃষ্টি বা মানবকি দৃষ্টিকোণ, যেখান থেকেই বলি না কেন দেখা যায় যে, ধর্ম বা মতবাদ মানা না-মানা ব্যক্তির স্বতন্ত্র ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে । কিন্তু ভিন্ন ধর্ম, মত ও পথের মানুষের সহাবস্থান নিরাপদ, সুনিশ্চিত করতে হবে।

ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী ছাড়াও এই ছোট্ট দেশটিতে রয়েছে নানা দেবদবীতে বিশ্বাসী অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী, যাদের প্রত্যকের রয়েছে আলাদা আলাদা কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতহ্যি, ভাষা, ধর্মবিশ্বাস, জীবনাচরণ ইত্যাদি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সংখ্যালঘু এসব সম্প্রদায় সেই প্রাচীনকাল থেকেই মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। মসজিদ, মন্দির, বিহার, র্গীজার পাশাপাশি নানা উপাসনালয় রয়েছে নানা ধর্মবিশ্বাসীদের। হিন্দু মন্দিরের শাখঁ কিংবা কাসর ঘণ্টার আওয়াজ যেমন কখনো অন্যান্য ধর্মের লোকের কানে বেসুরে ঠেকেনি, তদ্রূপ মুসলিমদের ইবাদত, বন্দেগী, আজানের ধ্বনিও ভিন্নমতালম্বীর কানে বিকট ঠেকেনি। বৌদ্ধদের বন্দনা-গীতি, খ্রীস্টানদের ভজনা ও র্প্রাথনা যে কাউকেই প্রীত করে । এসবের মাঝে যখন অপ্রত্যাশিতভাবেই ঐক্যতানে ছেঁদ পড়ে তখন আমরা বিপন্নবোধ করি।

আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না, এ দেশের মানুষের কাছে নানান ধর্ম ও মতবাদ আসার আগওে আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলো; আমরা তাদেরই উত্তরাধিকারী হয়ে ধর্ম ও মতের বিভক্তিতে রক্ত ও সংস্কৃতির বিচ্ছেদ করতে পারি না। এটা যথাযোগ্য অনুধাবন করতে না পারলে কোনো জাতি সে যতই সমৃদ্ধশালী হোক না কেন, সময়ের পরক্রিমায় তার ধ্বংস অনিবার‌্য। ভিন্নমত ও পথের বিচিত্র-বৈচিত্র্যপূর্ণ মানুষ পৃথিবীতে অতীতে ছিলো, বর্তমানে আছে ভবিষ্যতেও থাকবে, এটা স্বাভাবিকভাবে মেনেই সকলের সাথে ভ্রাতৃত্বের, বন্ধুর বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে, এমন গুণাবলীই মানুষের উত্তম ধর্ম।

সম্প্রীতি ও সৌর্হাদ্যর্পূণ পরিবেশে জীবনধারণ: ধর্মপদে বুদ্ধের উপদেশ উক্ত হয়েছে যে “কেউ সন্ত্রাসের মাধ্যমে কোনো বিরোধ মীমাংসা করলে সেটি অন্যায় হবে জ্ঞানীরা কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ সেটা গভীর ও শান্তভাবে বিবেচনা করে দেখেন। যিনি অহিংস উপায়ে সুন্দর পথে অন্যদেরকে পরচিালতি করেন তাকে সত্য, জ্ঞান ও ন্যায়ের অভিবাবক রূপে গণ্য করা যায়।’ (ধর্মপদ, ২৫৬-৫৭) ‘অতি মূল্যবান পোশাকে সজ্জিত না হয়েও যিনি শান্ত, সমাহিত, সৌম্য, সংযমী, আত্মনিয়ন্ত্রিত, পবিত্র জীবনাচারী, সুপ্রতিষ্ঠিত, অহিংস নীত-আদর্শে বিশ্বাসী, মৈত্রীময় জীবনযাপনে অভ্যস্ত ও সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী-করুণাভাব পোষণকারী তিনিই প্রকৃতপক্ষে পূত-পবিত্র-ত্যাগী, তিনিই প্রকৃত ভিক্ষু, প্রকৃত সন্ন্যাসী।” (ধর্মপদ, ১৪২

একদিন এক ভিক্ষু বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, “ভন্তে কার মধ্যে দিনেরাতে পুণ্য বৃদ্ধি পায়? কে ধার্মিক, কে পুণ্যবান বা পুণ্যবতী, কে র্স্বগে গমন করতে পারে? বুদ্ধ উত্তর দিলেন, “যে সকল লোক গাছ লাগায়, কুঞ্জবন তৈরি করে উদ্যান সৃষ্টি করে, সেতু নির্মাণ করে, পুকুর খনন করে, মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে ইত্যাদি তাদের মধ্যে দিন দিন বিকশিত হয়। এসব ধার্মিক লোকেরা র্স্বগে যায়।” (বনরোপা সূত্র)

ঘৃণা, বিদ্বেষর্পূণ কথা, প্রতিহিংসা ও আত্ম-বিশ্লেষণের গুরুত্ব: ‘তারা আমাকে অপমান করছে; আমাকে আহত করেছে; আমাকে পরাজিত করেছে; তারা আমাকে প্রতারিত করেছে- যার চিন্তার মধ্যে এগুলো স্থান পেয়েছে তার মন থেকে কখনো বিদ্বেষভাব দূরীভূত হবে না, তার মনের ক্লেশ-দ্বেষ কখনো শেষ হবে না। তারা আমাকে অপমান করেছে; তারা আমাকে আঘাত করেছে; তারা আমাকে পরাজিত করেছে; তারা আমাকে প্রতারিত করেছে- এ ধরনের চিন্তা যারা মনে স্থান দেয় না তাদের মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ-ঘৃণা চিরতরে দূরীভূত হয়ে যাবে। হিংসা-বিদ্বেষ-ঘৃণার দ্বারা কখনো ঘৃণা-বিদ্বেষ জয় করা যায় না। ঘৃণা-বিদ্বেষ উপশম হয় মৈত্রীর দ্বারা। এটাই শাশ্বত নিয়ম।’ (ধর্মপদ, ৩-৫)

‘অন্যকে দোষারোপ করে কটুবাক্য, অন্যকে অপমান করে বিদ্রুপাত্মক বা দম্ভাত্মক বাক্য র্বষণ— এ ধরনের আচরণে হিংসা-বিদ্বেষ-ঘৃণা উৎপন্ন হয়। এখান থেকেই দ্বন্দ্ব-সংঘাত উৎপন্ন হয়; এভাবেই মানুষের মনে বৈরী চিন্তা ও মনোভাব তৈরি হয়। (ধর্মপদ, ৮)‘অন্যের দোষ ধরো না, অন্যের ছিদ্র অন্বেষণ করো না, অন্যেরা কোনটা করেছে বা করেনি সেটা দেখো না, তুমি নিজে কোনটা করেছ বা করোনি সেটা বিচার করো।’ (ধর্মপদ, ৫০)

‘নিজেকে অন্যের চেয়ে বেশি ভালো কিংবা অন্যের চেয়ে বেশি হীন কিংবা অন্যের সমান, এ রকম কাউকে মনে করতে দিও না; অনেক মানুষের দ্বারা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে কারো সামনে নিজেকে জাহির করতে দিও না।’ (সুত্ত নপিাত, ৯১৮) বুদ্ধ বলেছেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট মতের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়া বা বেশি সংশ্লিষ্ট হওয়া এবং অন্যের মতকে হীন হিসেবে অবজ্ঞা করাকে জ্ঞানীরা মনের সংর্কীণতার বেড়াজালে আবদ্ধতা বলেন।’ (সুত্তনপিাত, ৭৯৮)

বুদ্ধের সঙ্গে একবার পরম বিত্তশালী ব্যক্তি উপালির সাক্ষাৎ হয়েছিল। উপালি ছিলেন অন্য ধর্মের অনুসারী। উপালি বুঝতে পারেন নি, বুদ্ধের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হবে তখন বুদ্ধ স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, অন্যান্য সকলের সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করেন তাঁর সঙ্গওে ঠিক একইভাবে ব্যবহার করবেন। সারা জীবন ধরে বুদ্ধ মানুষকে সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে মতের পার্থক্য থাকা সত্বেও।

লেখক পরিচিতি: ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, সম্পাদক, সৌগত। (এটি ২০১৯ সালে অনাবরণ স্মরণীকায় প্রকাশিত)


শেয়ার:

এ ধরণীর গর্বের ধন গৌতম বুদ্ধ : ড. কাজী নরুল ইসলাম


গৌতম বুদ্ধ কেবলমাত্র বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক বা একজন মহান দার্শনিক নন। তিনি মানবজাতির গৌরব। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ। হিন্দু পতিদের অনেকে এমনকি মহাত্মা গান্ধী গৌতম বুদ্ধকে মনে করতেন একজন অবতার হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক মুসলিম গবেষক মনে করতেন যে, গৌতম বুদ্ধ একজন নবী ছিলেন। পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি নেই যাকেঁ নিয়ে এত টানাটানি।-- তিনি অবতার ছিলেন কি-না বা একজন নবী ছিলেন কি-না তা জানিনা, এটুকু নির্দ্ধিধায় বলতে পারি, তিনি ছিলেন এ ধরণীর গর্বের ধন।

মানবতাবাদী এই মহান দার্শনিক মানব কল্যাণের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তিনি সুন্দরী স্ত্রী, শিশু-সন্তান, পিতা-মাতা এবং রাজ্য ত্যাগ করেছেন কোন স্বর্গ লাভের জন্য নয় বা কোন পরমেশ্বরকে পাবার উদ্দেশ্য নয়। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল, মানুষকে কীভাবে দুঃখ-কষ্ট ও হতাশার হাত থেকে মুক্ত করা যায়। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে যে কঠোর কৃচ্ছ সাধনার মাধ্যমে দুঃখের হাত থেকে মুক্তির পথে সন্ধান করেছেন তার তুলনা তিনি নিজেই।

তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি হিন্দু ধর্মের বর্ণ প্রথার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন দীর্ঘ ৪৫ বছর। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রীয়, বৈশ্য ও শুদ্রের বিভাজন তিনি মানতেন না। সব বর্ণের মানুষকে তিনি সমান দৃষ্টিতে দেখতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সমাজে সার্বজনীনরূপে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন। এখন থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এ ধরণের উদ্যোগ যে কত বড় মাপের তা কেবলমাত্র ইতিহাসবিদ এবং সমাজতত্ত্ববিদরাই অনুধাবন করতে পারবেন।

পাশ্চাত্যের অনেকে দাবি করেন যে, দর্শনের উৎপত্তি হয়েছে গ্রীসের। কিন্তু এ কথা সত্য নয়। গ্রীসের প্রথম দার্শনিক থেলিসের জন্মের বহু আগেই গৌতম বুদ্ধের দর্শন এ দেশকে আলোকিত করেছিল। আজ পাশ্চাত্যের দেশগুলো অস্তিত্ববাদ (--) যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ (---), প্রয়োগ বাদ (---) ইত্যাদি সমকালিন দার্শনিক সম্প্রদায় নিয়ে গর্ববোধ করে। কিন্তু তারা জানেনা এবং আমরাও অনেকে জানি না যে এ সমস্ত দর্শনের জন্ম বিগত একশত বছরে পাশ্চাত্যেও হয়নি। এ জাতীয় দর্শনের উদ্ভব ঘটেছে আড়াই বছর আগে গৌতম বুদ্ধের হাতে।

পাশ্চাত্যে অস্তিত্ববাদের উদ্ভব হয় প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পরে। এ দর্শনের মূল কথা হলো পৃথিবীর মানুষ দুঃখ কষ্ট বেদনার জ্বালায় অস্তিত্ব। তাদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন । কাজেই আমাদের চিন্তা-চেতনা জ্ঞান সাধারণ মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কী করে দুঃখের হাত থেকে বাচঁতে পারি। গত শতাব্দীতে পাশ্চাত্যের অস্তিত্ববাদী দার্শনিকগণ যে বক্তব্য উপস্থাপন করে পৃথিবীময় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন সেই বক্তব্যই আরও সহজ এবং সরল করে বলে গেছেন গৌতম বুদ্ধ আড়াই হাজার বছর আগে। তাই অবশ্যই বলতে হবে তিনি অস্তিত্ববাদী দর্শনের জনক।

যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ দর্শনের ইতিহাসে বিপ্লব এনেছে। এ সম্প্রদায়ের দার্শনিকগণ অধিবিদ্যার বিরুদ্ধে ঘোষণা করে, অধিবিদ্যাকে দর্শনের আলোচনার বাইরে ঠেলে দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য যা যাচাইযোগ্য নয় তাই অর্থহীন। আর এ কারণেই তারা ঈশ্বর, আত্মা, মরণোত্তর জীবন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনাকে অর্থহীন বলেছেন। কিন্তু পাশ্চাত্যে যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদীরা যে কথা বলে সমকালীন বিশ্বে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সে কথাই গৌতম বুদ্ধ অনেক আগেই বলে গেছেন। তিনি অধিবিদ্যা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকতেন। কারণ এ সমস্ত বিষয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে অনেক কথা বলা যায়। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপনীত হওয়া যায় না। তাই এ বিষয় সম্পর্কে আলোচনাকে তিনি বলেছেন অর্থহীন। আর এ কারণে সার্বিক মূল্যায়নের পর এ কথা অনস্বীকার্য যে তিনি এই যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদের জনক।

প্রয়োগবাদী দর্শন মূলতঃ সমকালীন আমেরিকান দার্শনিকদের অবদান বলে মনে করা হয়। এ দর্শনের মূলমন্ত্র হলো যা কাজে লাগে অর্থাৎ যার উপযোগিতা আছে তাই অর্থপূর্ণ বা তাৎপর্যপূর্ণ। যার ব্যবহারিক মূল্য নেই বা উপকারে আছে না তা নিয়ে ভাবা বা আলোচনা করা নিরর্থক। প্রয়োগবাদীদের শিক্ষা দর্শন বর্তমান বিশেষ সাদরে গৃহীত হয়েছে। এই দর্শনের যে প্রধান কথা তা হলো প্রয়োজনীয়তা বা ব্যবহারিক মূল্য বা উপযোগিতা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, গৌতম বুদ্ধ মানব ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি যিনি চিন্তা-চেতনা জ্ঞান সাধনার ক্ষেত্রে উপযোগিতাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। আর সে কারণে সার্বিক মূল্যায়নের পর নিঃসন্দেহে এবং নির্দ্ধিধায় বলা যায়, তিনিই প্রয়োগবাদী জীবন দর্শনের জনক।

জার্মান দার্শনিক শোপেনহাওয়ারের মতে বৌদ্ধ ধর্ম হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এখানে বলা প্রয়োজন যে, গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা দ্বারা নীতি বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। কতিপয় বিষয়ে তাদের দর্শন অভিন্ন। তাঁরা উভয়ে মনে করেন যে, এ জগৎ দুঃখে পরিপূর্ণ এবং আমরা সবাই দুঃখের সাগরে ভাসছি। শোপেনহাওয়ার বলেন যে, “হতে চাওয়া” “বাঁচতে চাওয়া” ইত্যাদি হচ্ছে দুঃখের মূলে। গৌতম বুদ্ধও কামনা বাসনাকেই সমস্ত দুঃখের কারণ বলে মনে করতেন। তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের কামনা বাসনার শেষ নেই সেহেতু আমাদের দুঃখের শেষ নেই। শোপেনহাওয়ার বলেন, আমাদের সাধ অনন্ত তাই দুঃখও অনন্ত। তাঁরা উভয়েই মনে করেন যে মৃত্যু আমাদের দুঃখের হাত থেকে বাঁচাতে পারেন না, মৃত্যু দুঃখের ব্যাপারে কোন সমাধান নয়। গৌতম বুদ্ধের শিক্ষাকে শোপেনহাওয়ারের কাছে অন্য যে কোন ধর্মীয় চেতনার শিক্ষার চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ এবং মানবজাতির কল্যাণের জন্য অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে আর সে কারণে খ্রিষ্টান ঘরে জন্মগ্রহন করে এবং খ্রিষ্ট পরিবেশে বড় হবার পরও তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

বার্ট্রান্ড রাসেলের মতো দার্শনিকও ছিলেন গৌতম বুদ্ধের প্রতি একান্ত শ্রদ্ধাশীল। জীবনের শেষ পর্যায়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি অপকটে স্বীকার করেন যে, পৃথিবীর অন্য যে কোন ধর্মের তুলনায় তিনি বৌদ্ধ ধর্শনকে অধিক পছন্দ করেন। তবে বৌদ্ধ ধর্মের শুরুতে যে শিক্ষা প্রচলিত ছিল কেবলমাত্র সেটাকেই তিনি ভালবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর মতো এই নিবন্ধকারও মনে করেন যে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রাথমিক স্তরেই গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা ছিল আবিষ্কৃত। আজ ২৫৫৭ বুদ্ধাব্দের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রার্থনা হোক, গৌতম বুদ্ধের মূল ও আবিষ্কৃত শিক্ষা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হোক এবং বুদ্ধবাণী সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরাট ভূমিকা পালন করুক।

লেখক পরিচিতিঃ ড. কাজী নরুল ইসলাম প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, বিশ্ব ধর্ম বিভাগ, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়। প্রবন্ধটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত এবং (এটি ২০১৯ সালে অনাবরণ স্মরণীকায় প্রকাশিত)।
শেয়ার:

শিজি জনম দিনোত : শ্রীমৎ সদ্ধর্মচারী ভিক্ষু


গাবুরো অকতট প্রবজ্যালোই মুক্তির সুধোম দেগেলে,
ধুতাঙ্গশীল পালেন্যাই গভীন ঝাড়ত সোমেলে।
ভালক বজর সং সাধনা গরি তুই দুগোত্তুন মুক্তো অলে,
চাঙমা জাদত্তুন আগমলিম ওই ধর্ম পত্থান দেগেলে।
দোয়ে গরি ভালক বজর সং ধর্মআন শিগেই গেলে,
চাঙমা জাদর ধর্ম বিজগ নুওগরি রজেই গেলে।
তরে দেনেই প্রবোজ্যে ললাক গাভুর লগে শদে-শত,
সোয্য গরি-ধৈয্য ধরি এব আগন তর শাসনত।
শীল-সমাধি-প্রজ্ঞালোই জীংকানি দোল গত্তন,
চেরোহিত্ত্যে দেজ-বিদেজে বুদ্ধ-ধর্মআন বিল্যায় দি যাদন।
ভান্তে তর দেগেইদে পধে আমি বেক্কুনে আদিবোং,
নির্বান যেয়োজ বিলি মনান চিগোন ন গরিবোং।
 ভান্তের নীতি শিক্ষ্যেলোই আমি মুজুঙেদি উজেবং,
ত দোক্কেন কন এক সময় আমিও দুগোত্তুন ছড়ান পেবং।
হেমা-মৈত্রী দোয়েলোই বেগর সুগ-ভালেদি ওক,
পূজ্য ভান্তের একশ’এক হেবর জন্মদিন্নো শিজি ওই উদোক।
শেয়ার:

ফটোগ্রাপি

জনপ্রিয় পোষ্ট

অনুসরণ করুন

facebook

ক্যাটাগরি

    প্রবন্ধ

সাম্প্রতিক পোষ্ট

অন্যান্য সাইট

  • Suttacentral
  • Kalpataruboi
  • Dhammatext

Featured Post

একটু সহানুভূতি : শ্রীমৎ অভিজ্ঞানন্দ ভিক্ষু

হে প্রভু—— মানবতার আকাশে আজ আগের মতো হয় না সোনালী স্নিগ্ধ ভোর জটপাকে কেটে যায় সময়ের প্রতিটি শাশ্বত প্রহর এ কেমন ঘোর, কী নিদা...

Pages

Theme Support

Need our help to upload or customize this blogger template? Contact me with details about the theme customization you need.