এখনো হয়নি প্রভাত—
ওঠেনি জেগে বিহঙ্গের দল
বাপীতে মেলেনি পাঁপড়ি কোনো শতদল
নিকুঞ্জে ঠাঁই দাঁড়ানো তরু-গুল্মলতা
সবিতার আহ্বানে তারা প্রহর গুণে মৌনতা
নিকষ কালো আঁধারে ঢাকা গহীন এই বনে
কতো নিরব নিস্তব্ধ এ রাত।।
তাতে কি আছে যায়— ?
আমি তো জেগেছি বেশ, কাটাবো বলে এক মগ্ন প্রহর
আঁধারে এনেছি আগামীর উচ্ছ্বাস, স্বপ্নের সোনালী ভোর
ধ্যান-সমাধী কিংবা ভাবনা নামে সে যাই হোক
অমৃতের স্বাদ নিতেই তো দিয়েছি মনের ঝোক
নিশাচর ডেকে যাক না যার যতো মন ভরে
বিষাদের সব দুঃখ ভূলে তাদেরই মতো করে
আমি আমার মতো ডুবি ভাবনায়।।*
এরপর কিংবা অতপর— ?
অতপর শুরু হলো আজ , হারিয়েছে কাল
পাখি ডাকে ফুল ফোটে এক স্নিগ্ধ সকাল
সোনালী আলোর পরশ মেখে মেখে আমি
উন্মুক্ত পায়ে হেটে আপন কর্তব্যে নামি
কাঁদা মাখামাখি ধুলোজমা পথের বুক ছিড়ে
শহুরের পিচঢালা রাস্তা, গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে
ক্লান্ত, তবু হেঁটে চলি বারবার।।
এতেই হলো না কো শেষ—
হতে পারে এই পথচলা ক্ষণকাল স্তব্ধ
কিংবা-ভৌতিক এ সমুদয় দেহ হতে পারে শ্রান্ত
কিন্তু-আমার ভাবনাগুলো সতেজ, পথ চলা গতিময়
যার নেই কোনো অবসাদ নেই ক্ষীণতার ভয়
আহরণ করে যায় অবিরত শ্রান্তিহীন মনে
এগিয়ে যাওয়ার অফুরন্ত রঙিন স্বপ্ন বুনে
আরো পাড়ি দিতে হবে যে আমায় বন্ধুর পথ
যে পথ চলা শেষ নয়, অশেষ।।
*এখানে “ভাবনায়” বলতে বুঝতে হবে প্রতিদিনের বা দৈনিক ধ্যান করার বিষয়।
কবিতাটি মূলত প্রতিদিন যে একজন সন্ন্যাসী খুব ভোরে এমনকি সবার আগে জেগে
ওঠে আর ধ্যান করে সেটি বলা হয়েছে। মোট কথায় একজন সন্ন্যাসীর কছু বৈশিষ্ঠ্যকে তুলে ধরা হয়েছে।






